জ্বালানি তেলের দাম কমছে!
সেপ্টেম্বর ২০১৫ তেই আন্তর্জাতিক বাজারে সাথে দেশের সব ধরণের জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর ফলে এটা বলা যায় বা স্পষ্ট যে দেশের বাজারে তেলের দাম কমছে।
গত এক বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে থাকলেও দেশের বাজারে কমানোর কোন কথা হচ্ছিল না। আগের লোকসান পোষানোর লক্ষে। অবশেষে বিশ্ব বাজারের সাথে দাম সমন্বয় করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।
রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সফররত আইএমএফ নির্বাহী পরিচালক রাকেশ মোহনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রী।
মুহিত বলেন, “ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে জ্বালানি তেলের দাম ভালোই কমেছে। আমাদেরকেও রিভাইজড করতে হবে।”
তিনি বলেন, “ জ্বালানি বিভাগকে সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণ করে একটা পেপার তৈরি করতে বলা হয়েছে। তারা পেপারটি তৈরি করলে সেই পেপারের আলোকেই অয়েল প্রাইস পুনর্নির্ধারণ করা হবে”।
মূল্য নির্ধারণের দিনক্ষণ বা তারিখ সম্পর্কে তিনি বলেন, “জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাবেন, সাথে আমিও যাব। তার আগেই তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হবে”।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৪০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। ২০০৯ সালের মার্চের পর এই প্রথম জ্বালানি তেলের দাম এত নিচে নামল।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাজার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে (ডব্লিউটিআই) গত শুক্রবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৩৯ ডলার ৮৬ সেন্ট। ইউরোপের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ২০০৯ সালের মার্চের পর্যায়ে নেমে এসেছে। শুক্রবার প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয় ৪৫ ডলার ৪৬ সেন্টে।
তেলের দাম না কমানোর যুক্তি হিসেবে অর্থমন্ত্রী বার বার আগের ভর্তুকি কমিয়ে আনার কথা বলছিলেন।
বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলছিলেন, “বছর বছর লোকসান দিতে দিতে বিপিসি একটি ‘জঞ্জাল’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সেই জঞ্জাল দূর করতেই তেলের দাম কমানো হচ্ছে না।”
সর্বশেষ ২০১৩ সালে সমন্বয়ের সময় বাড়ানো হয়েছিল জ্বালানি তেলের দাম। বর্তমানে লিটার প্রতি অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রোল ৯৭ টাকা, কেরোসিন ও ডিজেল ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment